
চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘নেচার মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এই গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, নতুন এই পরীক্ষাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউআরএআরই-সিক’ (URARE-seq)। প্রচলিত ইউরিন সাইটোলজি বা ডিএনএভিত্তিক পরীক্ষার তুলনায় এই পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর। গবেষণায় ৬৮৩ জন সুস্থ ও রোগীর প্রস্রাবের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পদ্ধতিটি মূত্রথলিতে সীমাবদ্ধ ক্যানসার ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছে।
সাধারণত তরল নমুনাভিত্তিক ক্যানসার পরীক্ষায় ডিএনএ-র মিউটেশন বা পরিবর্তন খোঁজা হলেও স্বাভাবিক কোষের পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় ফলাফল বিভ্রান্তিকর হয়। তবে নতুন এই পদ্ধতিতে ডিএনএ-র পরিবর্তে প্রস্রাবে থাকা ক্যানসার কোষের ‘আরএনএ’ বার্তা বিশ্লেষণ করা হয়। এর ফলে শুধু ক্যানসারের উপস্থিতিই নয়, বরং টিউমারটি ঠিক কী ধরনের আচরণ বা কার্যকলাপ চালাচ্ছে, সে সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।
গবেষকদের মতে, অস্ত্রোপচারের পর মূত্রথলির ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘বিসিজি’ ইমিউনোথেরাপিতে কোন রোগী বেশি উপকৃত হবেন, তা চিকিৎসার আগেই অনুমান করা যাবে এই পরীক্ষার মাধ্যমে। যাঁদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সক্রিয়তা বেশি থাকে, তাঁরা এই চিকিৎসায় ভালো ফল পান। অন্যদিকে, সিস্টোস্কোপির মতো কষ্টকর ও ব্যয়বহুল পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সহজ এই প্রস্রাব পরীক্ষা ভবিষ্যতে ক্যানসার রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি নজরদারিতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।